২০২৫ সাল

বিশ্ববাজারে এলএনজি বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও গত বছর বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড রফতানি এবং ইউরোপের বাজারে ক্রমবর্ধমান আমদানির কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত চলতি বছর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। খবর দ্য বিজনেসলাইন।

আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়নের (আইজিইউ) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এলএনজি বাণিজ্য ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের পর বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বড় উৎপাদক দেশগুলোর শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা বিশ্ববাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সাহায্য করেছে এবং অস্থিরতার সময়েও অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে ভূমিকা রেখেছে।

রেকর্ড সাফল্যের পরও জ্বালানি খাতের আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ২০২৬ সালে এলএনজি বাণিজ্যে হঠাৎ সংকোচন বা ধস ডেকে আনতে পারে। আইজিইউর সভাপতি আন্দ্রেয়া স্টেঘের বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এরই মধ্যে এলএনজির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ক্ষতি করেছে। এ সংকটে ওই অঞ্চলের বড় প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে বিশেষ করে এশিয়ার ক্রেতারা সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও উচ্চ মূল্যের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।’

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর সবচেয়ে বেশি আমদানি বেড়েছে ইউরোপে। ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের এলএনজি আমদানি ২ কোটি ৬১ লাখ টন বাড়িয়ে মোট ১২ কোটি ৬২ লাখ টনে উন্নীত করেছে। এ বিপুল পরিমাণ আমদানির ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর শীতকালীন মজুদ বেড়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছে।

অন্যদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সামগ্রিকভাবে এলএনজির বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। গত বছর এ অঞ্চলে ১৬ কোটি ৮৭ লাখ টন এলএনজি আমদানি করা হয়। তবে আগের বছরের তুলনায় এশিয়ায় মোট আমদানি ৯২ লাখ টন কমেছে, যার মূল কারণ চীন ও ভারতে চাহিদা কমে যাওয়া।

আমদানি ৮৯ লাখ টন কমলেও চীন ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করে বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক দেশের স্থান ধরে রেখেছে। আইজিইউ জানিয়েছে, চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানি বাড়ায় দেশটির এলএনজি আমদানি কিছুটা কমেছে। বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশকে চড়া মূল্যের স্পট মার্কেট বা খোলাবাজার থেকে গ্যাস কিনতে হয়েছে। এতে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোয় বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চাহিদার প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গত বছর ১১ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার টন এলএনজি রফতানি করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কাতার রফতানি করেছে ৮ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার টন।

আরও